
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা : দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য তেল, চিনি, মুড়ি থেকে শুরু করে মসলা ও শিক্ষা উপকরণের ওপর ভ্যাট অব্যহতি সুবিধা তুলে নেওয়া এবং শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে বাজার দরে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
১. নিত্যপণ্যের বাজারে ‘ভ্যাট’ আতঙ্ক
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যহতি পেয়ে আসা পণ্যগুলোর ওপর আবারও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল করতে চায় এনবিআর। এর মধ্যে রয়েছে:
* ভোজ্য তেল: রাইস ব্র্যান, সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে নতুন কর আরোপের ফলে দাম ২০% থেকে ২২.৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
* চিনি ও মুড়ি: সাধারণ মানুষের এই নিত্যপণ্যে ১৫% ভ্যাট পুনর্বহালের প্রস্তাব করা হয়েছে।
* মসলা: গুঁড়া মরিচ, জিরা, আদা ও হলুদের আমদানিতে শুল্ক ৫% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২. শিক্ষা ও বিনোদনেও ছাড় নেই
নতুন বাজেটের খড়গ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না শিক্ষা খাতও। স্কুল-কলেজে বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫% ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জাদুঘর, চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশমূল্যে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের বিনোদনের খরচও বাড়বে।
৩. তামাক ও বিলাসদ্রব্যে চড়া দাম
রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সিগারেটের দাম গড়ে ২০% বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালকোহল উৎপাদনে ১০০% সম্পূরক শুল্ক ও ১৫% ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে ১,০০০ কোটি টাকা বাড়তি আয়ের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।
৪. ডলারের দোহাই বনাম বাস্তব চিত্র
এনবিআর চেয়ারম্যান আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে ডলারের বিনিময় হারকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিশেষজ্ঞরা একে ‘অর্ধসত্য’ বলে মনে করছেন। কারণ, ডলারের দাম বাড়লে পণ্যের যে ‘অ্যাসেসিবল ভ্যালু’ বাড়ে, তার ওপর শতাংশ হিসেবে কর আদায়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়। একে বিশেষজ্ঞ মহলে ‘ট্রিপল হিট’ (Triple Hit) হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে ডলারের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক সুদের হার এবং নতুন করের বোঝা সাধারণ ভোক্তাকে দিশেহারা করে তুলছে।
৫. কর জাল বনাম করের বোঝা
অর্থনীতিবিদদের মতে, এনবিআর করের জাল (Tax Net) বড় না করে পুরনো করদাতাদের ওপরই বারবার করের বোঝা চাপাচ্ছে। কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও অটোমেশন তথা ‘সিস্টেম ট্রাস্ট’ নিশ্চিত না করে এভাবে পরোক্ষ কর বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।
নতুন বাজেটের এই প্রস্তাবনাগুলো কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, নিত্যপণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট অব্যহতি বহাল রেখে বিলাসদ্রব্য ও কর ফাঁকিবাজদের দিকে নজর দিক সরকার।
বক্স নিউজ: কোন পণ্যে কত বাড়তে পারে?
* ভোজ্য তেল: ২২.৫% পর্যন্ত
* চিনি ও মুড়ি: ১৫%
* মসলা: ১০%
* বই ও শিক্ষা উপকরণ: ১৫%
* সিগারেট: ২০%
* বিনোদন কেন্দ্রের টিকেট: ১৫%