জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নতুন করে আর কর অব্যাহতি চাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, "কর অব্যাহতির কথা বলবেন না। ধীরে ধীরে কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। কর দিয়ে কেউ দেউলিয়া হয়নি।"
গতকাল মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান সরকারি প্রকল্পে কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, "অনেক বড় প্রকল্পে দেখা যায়, ঠিকাদারদের করের দায়ভার সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এক-দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ঠিকাদার এখানে ব্যবসা করলেও কর চাপিয়ে দিচ্ছে সরকারের ওপর। এটি পরিবর্তন করা উচিত।"
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ৬৫ শতাংশ টিআইএনধারী এবার রিটার্ন দাখিল করেননি। তাদের ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং নোটিশ পাঠানো হবে।
আবাসন খাতের দাবি: নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব
বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব) ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমিয়ে ৯ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধন ফি সাড়ে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ, যা কমানো দরকার বলে সংগঠনটির দাবি। রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, "সাড়ে ৪ শতাংশ নিবন্ধন ফি দিয়ে দ্বিতীয়বার ফ্ল্যাট বা প্লট কেনাবেচার ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এতে একই সম্পত্তি বারবার হাতবদল হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।"
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)-এর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাঁচা চামড়াকে কৃষিপণ্য বিবেচনা করে তার সংগ্রহের ক্ষেত্রে উৎসে করের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রপ্তানির বিপরীতে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর আরোপিত উৎসে কর বাতিলের দাবি জানান।
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) প্রতিনিধি স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করলেও অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান আয়ের ওপর কর দিচ্ছে না। এনবিআর শুধুমাত্র উৎসে কর নিয়েই সন্তুষ্ট থাকছে, যা পরিবর্তন করা দরকার।
এছাড়াও বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে আইসিএমএবি, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনাল ফোরাম।
মন্তব্য করুন