Vatbondhu News
প্রকাশ : Aug 7, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ব্যবসায় অনিশ্চয়তার মেঘ কাটবে

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচিত সরকারই পারে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সময়সূচি ঘিরে ধোঁয়াশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল, এ ঘোষণার মাধ্যমে তা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে নতুন করে গতি আসবে বলেই আশা করছেন তারা।

দেশের জাতীয় নির্বাচনের সময় স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে সবার অনেক আশা ছিল। কিন্তু তারা ব্যবসায়ীদের আস্থায় নেয়নি; বরং বেসরকারি খাতের ব্যবসায় এই সরকারের নজর কম। এই কারণে বিদ্যমান ব্যবসায়ীরা ভুগছেন। বেসরকারি খাতে আস্থার ঘাটতি থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেশও পিছিয়ে আছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে পারে না। নির্বাচিত সরকার অঙ্গীকার নিয়ে আসে। তারা দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে পারে। তারা এলে ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেশি বাড়বে। তখন অনেকটা অস্বস্তিতে থাকা ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।


ঢাকায় অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টতার অপেক্ষায় ছিলাম। এখন যখন সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমাদের সদস্য কম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারবে। এটি বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের একটি ভালো বার্তা।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (অ্যামচেমের) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, নির্বাচনের সময় ঘোষণায় ব্যবসা-বিনিয়োগের আস্থা বাড়াবে। তবে বিনিয়োগকারীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় থাকবেন। শুধু সময় ঘোষণা নয়—শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, পুরনো আইন সংশোধন এবং কাস্টমসসহ লজিস্টিকস ব্যবস্থার সংস্কার বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও দরকার। যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য বজায় থাকে, তাহলে বাজার ও ব্যাবসায়িক খাতে যে গতি এসেছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে।



মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: তদন্তভার সিআইডি থেকে নিতে চা

1

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

2

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

3

আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের

4

পারিবারিক সঞ্চয়পত্র আর যৌথ নামে কেনা যাবে না

5

আলহাজ টেক্সটাইলসের সর্বোচ্চ দরপতন

6

সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ল আরও ২ মাস

7

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান সেনাপ্রধানের

8

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের

9

অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

10

কর ব্যবস্থার সংস্কার হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক

11

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

12

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

13

ফেব্রুয়ারি থেকে আমদানি-রপ্তানির সব সনদ অনলাইনে জমা বাধ্যতামূ

14

কর বাড়িয়ে তামাক বন্ধ সম্ভব নয়, প্রয়োজন ইনোভেটিভ আইডিয়া

15

‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাইছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা

16

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রাখলেন ট্রাম্প, ১ আগস্ট কার্য

17

ভারতের লোকসভায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিল উত্থাপন: কঠোর শাস্তি

18

ভ্যাট কন্সালটেন্ট কার্যক্রম ও গুরুত্ব

19

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

20