দেশের রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কর ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। তবে এ সংস্কার হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবতার নিরিখে অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে। অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়া নেওয়া নীতি টেকসই হবে না এবং এর ফলে শিল্প ও সেবাখাত সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কর নীতির কাঠামো পরিচালনা: গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর জন্য প্রভাব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. মাশরুর রিয়াজ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, জ্বালানি, তামাক ও ভোগ্যপণ্য খাতে সাম্প্রতিক কর নীতির পরিবর্তন এবং এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বিভিন্ন খাতে কর বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ার পরিবর্তে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘সরকার এমন একটি কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। আমাদের কর নীতির লক্ষ্য হলো রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। এজন্য আমরা শিল্প নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ বোঝার চেষ্টা করছি এবং একটি সুষ্ঠু কর কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, ‘কর নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ প্রয়োজন। অংশীজনদের মতামত ছাড়া নীতি পরিবর্তন করলে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘করহারের ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা চান। এটি নিশ্চিত করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।’
জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের (জেটিআই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল হলওয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়াই বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় কর বাড়ানো হয়েছে। এতে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অবৈধ ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
এনবিআরের সাবেক সদস্য ও সংস্কার কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে অংশীজনদের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের মতামত নিয়েছি। সেগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।’
দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘কর নীতিতে যেকোনো পরিবর্তনের আগে অংশীজনদের মতামত নেওয়া উচিত। এটি সকল পক্ষের জন্য উপকারী হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক আরিফুল হক, নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি দেবব্রত রায় চৌধুরী, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
এনবিআর একটি সুষ্ঠু কর কাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে শিল্প নেতৃবৃন্দের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছেন আলোচকরা।
মন্তব্য করুন