Vatbondhu News
প্রকাশ : Jul 13, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যকে জটিল করে তুলেছে ফেন্টানিল

চীনের তৈরি রাসায়নিক পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ফেন্টানিল ছড়াতে সাহায্য করছে বলে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। আর এই অভিযোগেই চীনের ওপর প্রথম সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এর জবাবে চীন জানিয়েছে, ফেন্টানিল সংকটটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সমস্যা, চীন এই বিষয়ে আগেই যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে। খবর সিএনএন।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমান মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতায় আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ, হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের রাজনীতিকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।’


শুল্ক আরোপের পরে চীনও কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি তারা দুইটি নতুন ফেন্টানিল উপাদানকে নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করেছে। সেইসঙ্গে আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ সিন্থেটিক ড্রাগ 'নিটাজিন'-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। চীনা মন্ত্রী ওয়াং শিয়াওহং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডুকে জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চীন প্রস্তুত। চীন সরকার তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাণিজ্য আলোচনায় সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

২০১৯ সালেও চীন পুরো ফেন্টানিল শ্রেণিকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি ফেন্টানিল প্রবাহ অনেক কমেও গিয়েছিল। তবে অপরাধ চক্রগুলো তখন থেকে কৌশল পাল্টে চীন থেকে কাঁচামাল নিয়ে মেক্সিকোয় উৎপাদন শুরু করে। এসব উপাদান এখনও চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি আসে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।

বিশ্লেষক রায়ান হ্যাস বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের পদক্ষেপগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দেয় বা চীনের উদ্বেগগুলো গুরুত্ব না দেয়, তবে ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগে সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিষ দিয়ে হত্যা করা’ ব্যবসায় জড়িত। যদিও চীন তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার একটি বিশদ শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তাদের উদ্যোগ তুলে ধরেছে বেইজিং। চীনের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদা না কমালে শুধু নিয়ন্ত্রণ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে একইসঙ্গে তারা এটাও স্বীকার করেছে যে, রাসায়নিক পাচারের পদ্ধতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন চাইছে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে। মাদকের বিশ্ববাজারে ‘সরবরাহকারী দেশ’ নিজেকে পরিচিত করতে চায় না দেশটি। একইসঙ্গে, তারা জানে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে চীনের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ পড়ছে। চীন বাণিজ্য ও মাদকবিরোধী সহযোগিতা একসঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে চায়।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

1

এয়ার পিউরিফায়ার আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে সহজলভ্য করল এনবিআর

2

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

3

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

4

মোংলা কাস্টমসের রাজস্ব ঘাটতি ৭৩১ কোটি টাকা

5

টেসলা কিনলেও রাস্তায় চালাতে পারবেন না ট্রাম্প

6

কোম্পানি করদাতাদের জন্য কর জমার সময়সীমা বাড়ালো এনবিআর

7

আমদানি-রপ্তানির পণ্য খালাসে নতুন শর্ত দিয়েছে এনবিআর

8

‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ চাইছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা

9

উইন-উইন সমাধানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুল্ক-চুক্তি করতে আগ্রহী ঢ

10

মোংলা বন্দরের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বসুন্ধরা গ্রুপের ভূমিকা

11

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

12

আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে : আলী রীয়াজ

13

মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার

14

পারিবারিক সঞ্চয়পত্র আর যৌথ নামে কেনা যাবে না

15

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

16

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

17

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

18

দ্বিতীয় দিনের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনা শেষ

19

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

20