Vatbondhu News
প্রকাশ : Apr 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রোবটকেও দিতে হবে কর —স্যাম অল্টম্যান

তবে সামনের দিনে সরকার জনকল্যাণমূলক কাজের অর্থ সংস্থান কীভাবে করবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের মতে, ভবিষ্যতে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াবে, তখন রোবট বা যন্ত্রের ওপর কর আরোপ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতিতে মানুষ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই কর ব্যবস্থায় এ পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াবে।’ খবর ইন্ডিয়া টুডে।


বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের অর্থনীতি মানুষের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। সরকার মূলত আয়কর ও পে-রোল কন্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে রাজস্বের বড় অংশ সংগ্রহ করে। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিন দিন আরো চৌকস হয়ে উঠছে এবং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের পরিমণ্ডলে প্রবেশ করছে। এমন এক সময় আসবে, যখন এআই মানুষের সমান বা তার চেয়েও বেশি দক্ষতা নিয়ে জটিল সব কাজ সম্পন্ন করবে।


ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি ফর দি ইন্টেলিজেন্স এজ শীর্ষক গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাবে কর্মসংস্থান কমলে সরকারের কর আদায়ের ভিত্তি সংকুচিত হয়ে পড়বে। ফলে জনকল্যাণমূলক খাতগুলোয় অর্থায়নের সংকট তৈরি হতে পারে। এ ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপাদিত সম্পদের ওপর কর বসানোর কথা ভাবছেন প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা।

তবে রোবট কর মানে এই নয় যে কোনো যন্ত্রকে সরাসরি করের ফরম পাঠানো হবে। অল্টম্যানের দর্শনের মূলে রয়েছে কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এর মাধ্যমে মূলত মানুষের কায়িক শ্রমের ওপর থেকে করের চাপ কমিয়ে পুঁজি বা মূলধনভিত্তিক করের দিকে নজর দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট আয়কর বৃদ্ধি অর্থাৎ যেসব কোম্পানি এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল মুনাফা করবে, তাদের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপ। পাশাপাশি বিত্তবানদের অর্জিত সম্পদের ওপর বাড়তি কর বসানো এবং যন্ত্রের উৎপাদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে নতুন ধরনের কর আদায় করা।

স্যাম অল্টম্যান এ ভাবনায় একা নন। ১০-২০ বছরের মধ্যে মানুষের জন্য কাজ করাটা ঐচ্ছিক হবে বলে মন্তব্য করেছেন টেসলাপ্রধান ইলোন মাস্কও।

অন্যদিকে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও দীর্ঘদিন ধরে রোবট করের পক্ষে কথা বলছেন। তার মতে, অটোমেশন যদি মানুষের চাকরি কেড়ে নেয়, তবে তা সমাজে বৈষম্য বাড়িয়ে দেবে। তাই রোবটের ওপর কর বসিয়ে সে অর্থ দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই কেবল পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ নয়, বরং মানুষের সৃজনশীল ও জটিল কাজগুলোও করার সক্ষমতা অর্জন করছে। তবে বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেও প্রযুক্তিটির সামাজিক প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্টম্যানের এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। কারণ এজন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও একটি সুসংগঠিত নীতিমালার পরিবর্তন। তবে প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে মানুষের ভবিষ্যৎ জীবিকা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই রোবট বা পুঁজিভিত্তিক কর ব্যবস্থার দিকে হাঁটা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও অপারেশনাল ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করতে আগ্রহ

1

মোংলা বন্দরের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বসুন্ধরা গ্রুপের ভূমিকা

2

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রাখলেন ট্রাম্প, ১ আগস্ট কার্য

3

আমদানিমূল্য পরিশোধের সময় বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

4

ফেব্রুয়ারি থেকে আমদানি-রপ্তানির সব সনদ অনলাইনে জমা বাধ্যতামূ

5

আলহাজ টেক্সটাইলসের সর্বোচ্চ দরপতন

6

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

7

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

8

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

9

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

10

সাঁতার প্রতিযোগিতার সেরা নাফিসা সিনেমায় নায়িকাও, নায়কের তালি

11

জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস ক্ষতি করে কিনা তা প

12

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

13

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

14

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

15

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

16

মধ্যরাতে বরখাস্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার

17

ভারত থেকে কাঁচা মরিচ এলো ৮ মাস পর

18

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

19

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

20